প্রতিষ্ঠান প্রধান

প্রফেসর মোঃ সামসুজ্জামান (৪৬৮৫)

অধ্যক্ষ, নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ

অধ্যক্ষের বাণী

বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব এর নামে ১৯৫৬ সালের ১লা জুলাই প্রতিষ্ঠিত নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ, নাটোর-উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতির সুশিক্ষা নিশ্চিতকণ্পে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং রাজনৈতিক পরিমন্ডলে ঐতিহ্যবাহি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ও চূড়ান্ত ফলাফলে অত্র কলেজ থেকে একাধিকবার ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অধিকার করায় আমি আনন্দিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যাঁদের অবদান রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত যাঁরা সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।এই কলেজে যে সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সে সকল বীর সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। কর্মরত সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও হিতৈষী ব্যক্তিবর্গ মহান ভাষা
বিস্তারিত...

প্রতিষ্ঠানের ইতিকথা

ঐতিহাসিক  নাটোর শহরে উচ্চ শিক্ষার প্রথম বিদ্যাপিঠ হিসেবে ‘নাটোর কলেজ’ গড়ে ওঠে ১৯৫৬ সালে । ইতিহাস এর পাতা থেকে সঠিক জন্ম তারিখটি পাওয়া যায় ০১জুলাই, ১৯৫৬ খ্রি: হিসেবে। এরপর ১৯৫৯ সালে এর নামকরণ হয় ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ’। অতপর ০১মার্চ ১৯৮০ খ্রি: সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে জ্ঞানালোকে সমুজ্জ্বল হয়ে অদ্যাবধি অবিরাম জ্ঞান প্রদীপ ছড়িয়ে যাচ্ছে এ কলেজ। ’নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ’, নাটোর এর মূল ভবনটি ইংরেজি ’E’ টাইপের। এ ছাড়াও এ কলেজের রয়েছে আরো দু’টি দৃষ্টি নন্দন একাডেমিক ভবন।
কলেজের অবস্থান : বর্তমানে কলেজটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়গাছা মৌজার অর্ন্তগত। নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পূর্বদিকে  প্রায় কোয়াটার কিলোমিটার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই শহরের কোলাহল মুক্ত সবুজ বৃক্ষরাজী শোভিত বড়গাছা এলাকায় প্রায় ৩৪ বিঘা জমির উপর নির্মিত কলেজের পুরো কাঠামোটি প্রাচীন নারোদ নদ দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত। এর বাইরেও নাটোরের লালপুর উপজেলার জোকাদহ মৌজায় কলেজের জন্য ৭৮ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। উক্ত জমি ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার অধিবাসী শ্রীযুক্ত মনশ্যাম দাস আগরওয়ালা এবং শ্রীযুক্ত রাধা কিষন আগরওয়ালা কলেজের জন্য দান করেন।

অতীতে ফেরা : মোগল শাসনামলে ১৭০৬ সালে বানগাছির বিখ্যাত জমিদার গণেশরাম রায় ও ভগবতীচরণ চৌধুরী যথানিয়মে রাজস্ব প্রদান করতে না পারায় জমিদারী থেকে উৎখাত হন। ঐ বছর উক্ত পরগণার দেওয়ান রঘুনন্দনের ভাই রামজীবন দিল্লীর স¤্রাট আলমগীরের নিকট থেকে ২২ খানা খেলাত ও রাজা বাহাদুর উপাধী লাভ করেন। এভাবেই গোড়া পত্তন হয় নাটোর নামক করদ রাজ্যের। এরপর কালক্রমে নাটোর জমিদারী বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহী থেকে মালদহ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। নাটোর সামন্ত রাজণ্যদের রাজধানী ছিল বর্তমান নাটোর শহর। ১৭৮৮ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ক্ষমতায় আসার পর নাটোর জেলা হেড কোয়ার্টার হিসেবে মনোনীত হয়। তখন থেকেই রাজশাহী জেলার হেড কোয়ার্টারে পরিণত হয় নাটোর এবং ১৮২৪ সাল পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নাটোর। জেলা মর্যাদা পাবার পর নাটোর একটি প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র ও সম্ভ্রান্ত লোকের আবাসভূমি হিসেবে গড়ে উঠে। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকান্ডের কিছু বাস্তব সমস্যার প্রেক্ষিতে তৎকালীন ইংরেজ প্রশাসনের পরামর্শে জেলা সদর নাটোর থেকে ১৮২৫ সালে রাজশাহীতে (রামপুর বোয়ালিয়ায়) স্থানান্তরিত হয়। এহেন অবস্থায় নাটোরের ঐতিহ্য ও গৌরব রক্ষার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার নাটোরকে ১৮২৯ সালে মহকুমা হিসেবে ঘোষণা দেন । নাটোরের প্রথম মহকুমা প্রশাসক ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট বি. এলফিনষ্টোন জ্যাকসন। জেলা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৯৬ বছর পর এরশাদ শাসনামলে ১৯৮৪ সালে নাটোর পুনরায় জেলার মর্যাদা ফিরে পায়। নাটোরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এটি প্রথমদিকে রাজধানীর মর্যাদা পেলেও পরবর্তিতে তা এক পর্যায়ে হ্রাস পেয়েছে।